,


অপ্রাপ্ত বয়স্কের বিয়ের অনুমতির আগে তদন্ত করতে হবে

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ এর বিশেষ বিধান যথাযথভাবে মেনে চলতে অধঃস্তন আদালতের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

রোববার (১৯ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত সার্কুলারটি জারি করা হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রণীত বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন-২০১৭ একটি বিশেষ আইন। এ আইনে অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ (২১ বছর পূর্ণ করেননি এমন কোনো পুরুষ) এবং নারীর (১৮ বছর পূর্ণ করেননি এমন নারী) বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭ এর ১৯ ধারায় নিতান্তই ব্যতিক্রম হিসেবে কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অপ্রাপ্ত বয়স্কদের সর্বোত্তম স্বার্থ, আদালতের নির্দেশ এবং বাবা-মা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের বিশেষ বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এ বিশেষ বিধানটি আইনের ব্যতিক্রম হিসেবে সর্বাস্থায় সর্বোচ্চ সতকর্তার সঙ্গে প্রয়োগযোগ্য। আবার এ আইনের অধীন কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঘটনার সত্যতা নিরুপনের নিমিত্তে অাদালতকে এ আইনের ১৬ ধারায় সরেজমিন তদন্ত করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। সঙ্গতকারণে আদালত কর্তৃক বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া আগে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষিত হওয়ার বিষ সম্পর্কে সরেজমিন তদন্ত বা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান করা সমীচীন মর্মে প্রতীয়মান হয়।

বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এসেছে উল্লেখ করে সার্কুলারে বলা হয়, কোনো কোনো আদালত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ এর ১৯ ধারায় অপ্রাপ্ত বয়স্কের বিয়ে অনুষ্ঠানের আবেদন বা কার্যধারা সমূহ অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার তদন্ত বা অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন না করে বাল্যবিয়ের অনুমতি দিয়েছে। এতে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীর স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

‘এ অবস্থায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ১৯ ধারায় দাখিলী অপ্রাপ্ত বয়স্কের বিয়ে অনুষ্ঠানের আবেদন বা কার্যধারা সমূহ নিষ্পত্তির পূর্বে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সরেজমিন সুপ্রিম  তদন্ত বা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান কার্যক্রমসহ সব বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
এ সার্কুলের বিষয়টি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য আইন সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সব জেলা ও মহানগর দায়রা জজ, সব নারী ও শিশু নিযাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, সব চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, সব চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published.