[সরেজমিন বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি] যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল হৃদস্পন্দন হলো তার ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত। ব্যাংক ব্যবস্থা যদি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও সুশাসনে পরিচালিত হয়, তবে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও জাতীয় প্রবৃদ্ধি ত্বরাান্বিত হয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে খেলাপি ঋণের অনাকাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি, ঋণ জালিয়াতি ও মুদ্রা পাচারের কারণে বাংলাদেশের আর্থিক খাত যে গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এখনই বৈপ্লবিক সংস্কার ও কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।

[ঐতিহাসিক ও অতীত পটভূমি] স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ছোট হলেও সেখানে শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্ব বিদ্যমান ছিল। কিন্তু সত্তরের দশক থেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে দুর্বল তদারকি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর তাগিদ সত্ত্বেও বারবার রাজনৈতিক সুবিধায় ঋণ পুনর্গঠন ও মওকুফের কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা লাভবান হয়েছেন।

[সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব] ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ আমানতকারী ও মূল্যস্ফীতির ওপর। যখন ব্যাংকগুলো টাকা ফেরত না পেয়ে নতুন শিল্পে ঋণ দিতে পারে না, তখন নতুন কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যায় এবং ডলার সংকটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত নাগরিকদের জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

[বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতামত] জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, "কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা প্রদান করতে হবে যেন তারা রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপমুক্ত হয়ে অসাধু ব্যাংকার ও খেলাপিদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে। একটি স্বাধীন ডেট রিকভারি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও খেলাপি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এখন অর্থনৈতিক টিকে থাকার শর্ত।"

[বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন] আর্থিক খাতের অনিয়ম রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ক্রেডিট স্কোরিং, অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং ব্লকচেইন ভিত্তিক ট্রানজেকশন ট্র্যাকিং চালু করা জরুরি। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া নামসর্বস্ব কোম্পানির নামে ঋণ অনুমোদন শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

[জীবনযাত্রা ও আবাসন রূপান্তর] অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থাকলে আবাসন ও রিয়েল এস্টেট খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ঢাকার আধুনিক নগরায়ণে সৎ ও সুরক্ষিত রিয়েল এস্টেট প্রপার্টি লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য জানতে House & Apartment for Sale in Dhaka এর তথ্য বহুল পোর্টাল একটি অন্যতম প্রধান সাহায্যকারী অবকাঠামো।

[আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও তুলনা] ব্যাসেল-৩ (Basel III) আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং মানদণ্ডের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, আমাদের দেশে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ও খেলাপির পরিমাণ আন্তর্জাতিক সীমার অনেক বাইরে। ভারত বা ভিয়েতনামের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো যেভাবে আইনি সংস্কারের মাধ্যমে তাদের ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করেছে, সেই আন্তর্জাতিক মডেল আমাদের প্রয়োগ করতে হবে।

[প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সলিউশন] ব্যাংক ও ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনগুলোর সাইবার নিরাপত্তা, কোর ব্যাংকিং সলিউশন (CBS) ও ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেল সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক মানের সফটওয়্যার সলিউশন আবশ্যক। প্রযুক্তি অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও বিশ্বমানের সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট সেবার জন্য Visit InfoBits Website সাইটটি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য এক অত্যন্ত কার্যকর সমাধান।

[নৈতিক ও আত্মিক অনুচিন্তা] জনগণের আমানতের টাকা খেয়ানত করা ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিতে এক মহাশত্রুতা। ব্যাংকের টাকা মেরে দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা দেশের লাখ লাখ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর চরম অত্যাচার। আর্থিক খাতে সততা ও ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনা কেবল আইনি দায়িত্ব নয়, এটি এক পরম জাতীয় দায়িত্ব।

[ভবিষ্যৎ নীতি সুপারিশ ও রূপরেখা] অবিলম্বে একটি শক্তিশালী স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করে প্রতিটি ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ অডিট করা উচিত। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট স্থগিতের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব সুসংহত হবে।