বর্ষার শুরুতেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিপাতে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক ও গলিগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে আশঙ্কাজনক জলাবদ্ধতা। কারওয়ান বাজার, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, শান্তিনগর এবং ডেমরা এলাকায় সড়কগুলোতে পানি জমে বাস ও ছোট যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। গণপরিবহনের চরম সংকট এবং দীর্ঘ যানজটে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ নালায় পলিথিন ও কঠিন বর্জ্য জমে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক খালগুলো অবৈধ দখলে সংকুচিত হওয়াই এই দীর্ঘদিনের নগর যন্ত্রণার মূল কারণ।
ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা ও সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (DNCC) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (DSCC) সূত্রে জানা গেছে, শহরের নর্দমা দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে ৫০ থেকে ৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতিভারি বর্ষণ হচ্ছে। নগর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক পানি সরানোর জন্য 'কুইক রেসপন্স টিম' মাঠে নামালেও ভূগর্ভস্থ নালাগুলোর মুখ বর্জ্যে আটকে থাকায় পাম্পিং কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ঢাকার জলাবদ্ধতা শুধু ড্রেনের বিষয় নয়, এটি আমাদের নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার আইনি দায়িত্ব। অবৈধ দখলমুক্ত না করা পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
খাল উদ্ধার ও বুড়িগঙ্গা-তুরাগ সংযোগ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা
রাজধানীর ২৯টি বড় খালের মধ্যে অর্ধেকের বেশি এখন পলিথিন ও ময়লার স্তূপে ভরাট। জিরানী খাল, দেবধোলাই খাল ও রূপনগর খালের সীমানা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর সংযোগস্থলগুলোতে আধুনিক স্লুইস গেট ও ওয়াটার পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।







