বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিল্প খাতের জ্বালানি সংকট। এই সংকট সমাধানে তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমন্বিত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। নতুন রোডম্যাপে শিল্পাঞ্চলে অনবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি কারখানাগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল (Rooftop Solar) স্থাপনের মাধ্যমে সবুজ জ্বালানি ব্যবহারের হার দ্বিগুণ করার কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট ও নতুন এলএনজি টার্মিনাল নীতি
গাজীপুর, সাভার, নারায়নগঞ্জ ও চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক ও ডায়িং কারখানাগুলোতে গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেটরগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না। এতে দৈনিক উৎপাদন সময় নষ্ট হচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে দামি ডিজেল ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) চালুর মাধ্যমে প্রতিদিন আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে, যার অগ্রাধিকার পাবে টেক্সটাইল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনসমূহ।
আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু পোশাকের দাম দেখে না, দেখে পণ্যটি উৎপাদন করতে কতটুকু কার্বন নির্গমন হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া ১০০ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন সত্যি হওয়া কঠিন।
সবুজ কারখানা ও ইইউর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM)
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) কর্তৃক ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া পরিবেশগত নতুন আইন 'কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম'-এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বাংলাদেশের ২০৬টিরও বেশি লিড (LEED) সার্টিফাইড গ্রিন কারখানা প্রস্তুত রয়েছে। তবে হাজার হাজার ছোট ও মাঝারি (SME) কারখানাগুলোকে পরিবেশবান্ধব করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পুনর্অর্থায়ন স্কিমের আওতায় স্বল্প সুদে সবুজ ঋণ প্রদান করছে। এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি আসবে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।








