গাজা উপত্যকায় বছরের পর বছর ধরে চলা সামরিক সংঘাতের ফলে উদ্ভূত মানবিক সংকট এখন ইতিহাসের নজিরবিহীন ও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (UNICEF) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯০ শতাংশ—প্রায় ১৯ লাখ মানুষ—বারবার স্থানান্তরিত ও বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন। চরম আশ্রয়হীনতা, বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক অভাব এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার পুরোপুরি ধ্বংসের কারণে বাস্তুচ্যুত তাবু ক্যাম্পগুলোতে পোলিও, ডায়রিয়া ও ত্বকের সংক্রামক ব্যাধি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে, যার প্রধান শিকার অবুঝ শিশুরা।
ইউনিসেফের মানবিক প্রতিবেদন ও হাসপাতালগুলোর কঙ্কালসার অবস্থা
ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এলডার জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, 'গাজা এখন শিশুদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান। এখানকার হাজার হাজার শিশু অঙ্গ হারিয়েছে, মা-বাবাকে হারিয়েছে এবং তারা প্রতিদিন তীব্র ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাঁদছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন, গুঁড়ো দুধ ও অ্যান্টিবায়েটিক ওষুধ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে আটকে থাকায় চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।' গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১০টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ ও সার্জিক্যাল সামগ্রীর অভাবে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না।
এটি আর শুধু মানবিক সংকট নয়, এটি মানুষের বিবেকের পরীক্ষা। একটি গোটা প্রজন্মের শিশুদের চিকিৎসা ও খাদ্য থেকে বঞ্চিত করে স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ কল্পনা করা যায় না।
সুপেয় পানির আকাল ও চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি
গাজায় ডি-স্যালাইনেশন (লবণাক্ত পানি শোধন) প্ল্যান্টগুলো জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাথাপিছু দৈনিক পানির প্রাপ্যতা নেমে এসেছে মাত্র ২ থেকে ৩ লিটারে, যেখানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসম্মত চাহিদা ১৫ লিটার। চর্মরোগ ও জন্ডিসে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা গত তিন মাসে ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো অবিলম্বে সীমানা খুলে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে মানবিক ত্রাণ বিতরণের পথ উন্মুক্ত করার তাগিদ দিয়েছে।








