আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে মার্কিন প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ৬০টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক (Reciprocal Tariffs) আরোপের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন এই বাণিজ্য নীতিমালার আওতায় স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, অটোমোবাইল সামগ্রী, টেক্সটাইল এবং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্সের ওপর ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বর্ধিত শুল্ক কার্যকর হবে। ওয়াশিংটনের যুক্তি হলো, অভ্যন্তরীণ ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে রক্ষা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করা। তবে বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি বিশ্বজুড়ে নতুন শুল্কযুদ্ধের (Tariff War) সূচনা করতে পারে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার জরুরি বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে মার্কিন শুল্ক নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা সতর্ক করে বলেছেন, 'একতরফা শুল্ক আরোপ বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) চরমভাবে ব্যাহত হবে এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।'

বাণিজ্য সুরক্ষা নীতি সাময়িক সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা বৈশ্বিক ভোক্তাদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দেয়।

দক্ষিণ এশিয়া ও উদীয়মান অর্থনীতির বাজারে প্রভাব

নতুন এই শুল্কের আওতায় এশিয়ার তৈরি পোশাক ও ইলেকট্রনিক্স উপাদান রপ্তানিকারক দেশগুলো চরম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। মার্কিন বাজারে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক দেশ বিকল্প হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য, ল্যাটিন আমেরিকা ও আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (RCEP) এর মাধ্যমে নতুন বাজার অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিচ্ছে।