সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত ওআইসি সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (OIC) নির্বাহী কমিটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক জরুরি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং বেসামরিক অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়। সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের মতে, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতি অমান্য করে আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে গোটা মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

যৌথ ঘোষণার প্রধান নীতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ

সম্মেলন শেষে গৃহীত জেদ্দা ঘোষণায় ওআইসির মহাসচিব হুসেইন ব্রাহিম তাহা বলেন, 'আমরা বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে সকল সামরিক সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা বা সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ করার হুমকি আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।' ওআইসির সদস্য দেশগুলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) প্রতি আহ্বান জানায় যেন তারা মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্মান প্রদর্শন। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামো ধ্বংস কোনো রাষ্ট্রিক সংকটের সমাধান হতে পারে না।

মানবিক সহায়তা জোরদার ও বৈশ্বিক সংলাপের আহ্বান

ঘোষণাপত্রে সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ওষুধ, খাদ্য ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস (ICRC) সহ অন্যান্য ত্রান সংস্থাকে নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর জন্য মানবিক করিডোর চালুর জোর দাবি জানানো হয়েছে। ওআইসি ভুক্ত দেশগুলো বিশ্ব পরাশক্তি ও নিরাপত্তা পরিষদকে দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায়।