মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন রূপ নেওয়ায় এবং ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজার চরম উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ৯০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করতে পারে। জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী কোনো কারণে সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হলে বা তেলবাহী নৌযান চলাচলে ধারাবাহিক হামলা ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক হবে না।

হরমুজ প্রণালীর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব

পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই সংকীর্ণ প্রণালী অতিক্রম করে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। সৌদি আরব, ইরান, ইউএই, কুয়েত ও ইরাকের সিংহভাগ তেল রপ্তানি এই সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শিপিং কোংগুলো জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম (War Risk Insurance) প্রায় ৩০০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর।

হরমুজ প্রণালীতে সামান্যতম বিঘ্নও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা দিতে সক্ষম। এটি শুধু জ্বালানির বিষয় নয়, এটি বিশ্ব খাদ্য ও পণ্য চলাচলের নিরাপত্তায় জড়িত।

আমদানিকারক দেশগুলোর জরুরি বিকল্প জ্বালানি মজুদ নীতি

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) সদস্য দেশগুলোকে অন্তত ৯০ দিনের জরুরি তেল মজুদ (Strategic Petroleum Reserve) নিশ্চিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশ—ভারত, চিন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া—পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি পশ্চিম আফ্রিকা ও মার্কিন মহাদেশ থেকে বিকল্প তেলের উৎস নিশ্চিতের উদ্যোগ জোরদার করেছে।